রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এরপর বুধবার বিধানসভা চত্বরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন দলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক। বৈঠক শেষে তাঁরা স্পিকারের কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন, যেখানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঠিক করা হয় বিরোধী দলনেতা হিসেবে। শাসকদলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ এবং মতভেদের প্রশ্নও আবার সামনে চলে এসেছে।দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, এই দুই বিধায়ক সংগঠনের নীতির বিরোধিতা করেছেন এবং নেতৃত্বের নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর দলের আদর্শ থেকে সরে যাওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এও বলেন, যাঁদের উপর আস্থা রেখে দল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল, তাঁদের আচরণে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছেছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন দলেরই এক প্রবীণ নেতা সুপ্রকাশ গিরি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর মতে, বহু বছর ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা কর্মীদের তুলনায় অন্য রাজনৈতিক শিবির থেকে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলের ভেতরে প্রকৃত কর্মী এবং সুযোগসন্ধানী নেতাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে।সামাজিক মাধ্যমেও তিনি একাধিক মন্তব্য করে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেন। তাঁর দাবি, কিছু নেতার অতীত ভূমিকা এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যা সময়মতো সামনে আনা হবে। অন্যদিকে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর ঋতব্রত ব্যানার্জিও চুপ থাকেননি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনের ভেতরে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরে সমস্যা নিয়ে বারবার কথা বললেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।বর্তমানে সই জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্ত, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ঋতব্রতকে ঘিরে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন সুপ্রকাশ গিরি, ‘হলদিয়া-আসানসোলে কী করেছেন সবাই জানে’’
Popular Categories


