বিজেপি সরকারের চটকদার প্রচার আর আসল কাজের ফাঁকফোকর এবার হাতেনাতে ধরা পড়ল নদিয়ায়। রাজ্যে ঢালাও প্রচার করে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর পরেই দেখা গেল এক চরম কেলেঙ্কারি। মহিলাদের প্রাপ্য টাকা এবার ঢুকে গেল এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে! ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বড় বড় কথা বলা বিজেপি নেতাদের রাজত্বে এবার খোদ ‘পুরুষ অন্নপূর্ণা’র খোঁজ মেলায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নদিয়ার ভীমপুর থানার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিত বিশ্বাস পেশায় একজন গ্রামীণ চিকিৎসক। তিনি সরকারি বৃদ্ধভাতার প্রাপক। নিয়মমাফিক নিজের বার্ধক্যভাতার টাকা তুলতে তিনি যখন স্থানীয় ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে যান, তখনই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁর। ব্যাঙ্ক কর্মী তাঁকে জানান, বার্ধক্যভাতার পাশাপাশি তাঁর অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ খাতের ৩ হাজার টাকাও জমা হয়েছে। ঘটনায় হতবাক স্বয়ং সঞ্জিতবাবুও। তিনি স্পষ্ট জানান, এই প্রকল্পের জন্য তিনি কোনওদিন আবেদনই করেননি। তাহলে টাকা এল কোথা থেকে? বিজেপি সরকারের চরম গাফিলতি ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সঞ্জিতবাবু সততার পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি শুধু আমার প্রাপ্য বৃদ্ধভাতার টাকাই তুলেছি, অন্নপূর্ণার টাকা ছুঁইনি। কীভাবে এই টাকা এল জানি না। আমি পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়ে এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে দেব।” এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় চরম হুলস্থুল পড়ে গেছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোট বৈতরণী পার হতে তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প ঘোষণা করেছে বিজেপি। কোনওরকম সঠিক তথ্যভাণ্ডার বা পরিকাঠামো না বানিয়েই এই যোজনা চালুর নামে আসলে প্রহসন চলছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বুলি আওড়ানো দলের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত গলদের কারণে আসল যোগ্য মহিলারা বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বাংলার সচেতন নাগরিকরা।


