পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে গত কয়েকদিন ধরে একটি জল্পনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছিল, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদে যেতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই নাকি বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এই জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে দিলেন সৌরভ নিজেই।
সম্প্রতি একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি লোকসভায় প্রবেশ করতে চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও দাবি করা হয়, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নাকি দেওয়া হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। পাশাপাশি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদিও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক দ্রুতই এই সমস্ত দাবি খণ্ডন করেন।
একটি বিবৃতিতে সৌরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও আলোচনা করেননি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইউসুফ পাঠানের কাছে তিনি কোনও বার্তাও পৌঁছে দেননি।
সৌরভের কথায়, “এই প্রতিবেদনে আমাকে নিয়ে যে সমস্ত দাবি করা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কখনও ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগের বার্তা দিতে বলেননি। আমিও ইউসুফের কাছে এমন কোনও বার্তা নিয়ে যাইনি। শুধু তাই নয়, আমি কোনওদিন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”
এখানেই থেমে থাকেননি প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সৌরভ বলেন, “এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। গুজবের ভিত্তিতে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত নয়। সত্যতা যাচাই না করে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” সৌরভের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর বহরমপুর কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জল্পনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

