মূল্যবৃদ্ধির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির মাঝেই ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। রবিবার থেকে ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। এর ফলে কলকাতায় একটি ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়াল ৯৬৮ টাকা।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ৩৫৮ টাকা ৫০ পয়সা। গ্যাস সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, আগে থেকে বুকিং করা থাকলেও রবিবার থেকে সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় গ্রাহকদের বর্ধিত দামই দিতে হবে।
গত তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি। এর আগে চলতি বছরের ৭ মার্চ ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় কলকাতায় গ্যাসের দাম হয়েছিল ৯৩৯ টাকা। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সেই দাম বেড়ে ৯৬৮ টাকায় পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির জেরেই দেশীয় বাজারেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করে দলের এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, “মোদির দাম বৃদ্ধির চাবুক আবার চলল জনতার উপর। মোদির নীতি একটাই—সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলে ধনী বন্ধুদের কোষাগার ভরতি কর।”
সূত্রের খবর, গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পূর্ণ হারে দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে গ্যাস বিপণন সংস্থাগুলির লোকসান অব্যাহত ছিল। শনিবার রাত পর্যন্ত প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০৩ টাকা লোকসান হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই ক্ষতি কিছুটা কমাতেই নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কমাতে আগামী দিনে আরও কয়েক দফায় রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হতে পারে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসারের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


