ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের চরম বিপর্যয়ের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তবে মুখ খুলেই তিনি একের পর এক বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী রণকৌশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে। বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে বসে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কেষ্ট স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের এই ভরাডুবির প্রধান ভিলেন আইপ্যাক। তাঁর ক্ষোভ, আইপ্যাক আসার পর থেকেই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে। মাঠের সংগঠন দিয়েই দল চলে, কোনো কর্পোরেট সংস্থা দিয়ে দল চালানো যায় না।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তোলার মারাত্মক অভিযোগ এনে অনুব্রত বলেন, ক্ষমতায় বসানোর লোভ দেখিয়ে ও দলের বিভিন্ন পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে নেতাদের কাছ থেকে বিপুল টাকা তুলেছে এই সংস্থা। ১৯৯৮ সালে যখন দল তৈরি হয় বা ২০১১ সালে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, তখন কোনো আইপ্যাক ছিল না। তাহলে এখন তাদের কী প্রয়োজন ছিল? উত্তরপ্রদেশ বা বিহার থেকে আসা আইপ্যাকের কর্মীরা বীরভূমের লাভপুর বা মুরারইয়ের মাটির রাজনীতি কী বুঝবে? তারা আসলে সংগঠনকে ভুল পথে চালিত করে নিজেরা টাকা কামাতে এসেছিল।
একই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কেষ্ট জানান, এবার নির্বাচনে দল তাঁকে কোনো দায়িত্বই দেয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে তাঁকে বলা হয়েছিল, বিধায়করা ডাকলে তবেই যেতে। নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর পাননি তিনি। তাই এবারের ভোটে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। দলের ১৯ জন সাংসদের এনডিএ জোটে যাওয়ার প্রসঙ্গে তাঁদের আড়াল করে অনুব্রত বলেন, তাঁরা অন্যায় করেননি, বিজেপিতেও যাননি, নিজেদের মতো একটা ফ্রন্ট গড়েছেন। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে দলনেত্রীর একসময়ের প্রিয় ‘কেষ্ট’র হুঁশিয়ারি, “সম্মান পেলে তবেই দল করব, না পেলে চুপ করে ঘরে বসে থাকব।”


