অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। যদিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কমে হয়েছে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার। তবুও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও জলবন্দি হাজার হাজার পরিবার।
এখনও পর্যন্ত শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন—এই সাতটি জেলা বন্যার কবলে। ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চরাইদেও জেলায়, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত।
মঙ্গলবার শিবসাগরের নজিরা এলাকায় সাতজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বর্তমানে রাজ্যের ৮১টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ। পাশাপাশি ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুর্গতদের হাতে।
বন্যার জলে তলিয়ে গেছে ৪৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়ি, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং অন্যান্য পরিকাঠামো। সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং দমকল বাহিনী এখনও উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ লক্ষ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছে অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পেতে আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বাধ্যতামূলক নয়। সার্কেল অফিসারের শংসাপত্রই যথেষ্ট হবে।
এছাড়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলার পরিবারগুলিকে ১৫ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, পাঠ্যপুস্তক এবং উচ্চশিক্ষার ছাত্রছাত্রীদের বই কেনার জন্য আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
ত্রাণ শিবিরে থাকা শিশুদের জন্য পড়াশোনা ও খেলাধুলার বিশেষ ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দুর্যোগের মধ্যেও শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

