অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অনুদানের কথিত অপব্যবহার ও চুরির বিষয়ে তথ্য থাকার দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার উত্তরপ্রদেশের বিষ্ণোহরপুর গ্রামে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিজ ভূষণ বলেন, “আমি খুবই দুর্বল একজন মানুষ। সত্যি কথা বললে আমি বিপদে পড়ব, কারণ তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই মুহূর্তে সত্যি কথা বলার মতো সাহস আমার নেই। উপযুক্ত সময় এলে আমি কথা বলব।”
তবে তিনি কার কথা বলছেন বা রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত কথিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে কী ধরনের তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
রাম মন্দির ট্রাস্টের জন্য সংগৃহীত তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিজ ভূষণের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে প্রায় ১০ দিন কাটিয়ে তিনি নিজের গ্রামে ফিরেছেন। এ সময় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের কুস্তিগীরদের আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন প্রাক্তন এই সাংসদ। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই বিতর্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তাঁর জীবনে পড়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এছাড়া নিট (NEET) ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিরও বিরোধিতা করেন ব্রিজ ভূষণ। তাঁর মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো একক ব্যক্তির দায় নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে কাউকে বলির পাঁঠা বানানোর পরিবর্তে গোটা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের এই মন্তব্য রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রশ্ন ও তদন্তের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে। যদিও তাঁর দাবির পক্ষে এখনও কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সামনে আসেনি।
ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যতই তীব্র হোক না কেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


