লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় ফাটল ধরার পর, এবার বিদ্রোহী ব্লকে নাম লিখিয়েছেন হুগলির সেলিব্রিটি সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হওয়া এই তারকা সাংসদকে নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ৪ জুন ভোটের ফল প্রকাশের পরই গেরুয়া আবির মাখা বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সেলফি তোলার ছবি সামনে এসেছিল। এরপর দিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরে তাঁর যোগদানের খবর সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।
এরই মধ্যে সূত্রের খবর, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের সঙ্গে। সুমনা যে বলাগড় বিধানসভার বিধায়ক, সেটি হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। রচনার আপ্তসহায়ক (PA) মন্ত্রী সুমনার অফিসে ফোন করে দেখা করার এবং শুভেচ্ছা জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে এই প্রস্তাবে বিশেষ সাড়া দেননি সুমনা সরকার।
এই বিষয়ে মন্ত্রী সুমনা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উনি একজন সাংসদ হিসেবে সৌজন্য দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে দলই সবথেকে বড়। দলের গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে আমি কিছু করতে পারব না। উপরমহল থেকে কোনো নির্দেশ না এলে আমি কথা বলব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার বিধানসভার কর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। তাই তাঁদের মতামত নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। রচনার পিএ আমার কার্যালয়ে আসতে চেয়েছিলেন, তবে এখন আমাদের দলের কার্যকর্তারা যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই হবে।” অন্যদিকে, এই দলবদল ও যোগাযোগ পর্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলির সাংসদের এই সাম্প্রতিক গতিবিধি তৃণমূলের অন্দরে নতুন এক অস্বস্তির জন্ম দিল।

