হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে ঘিরে ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানোর একদিনের মধ্যেই মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এলাকায় চলাচলকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর শুক্রবার মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের ‘জোরালো প্রতিবাদ’ জানিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কোনওভাবেই ন্যায্য হতে পারে না।
এর জবাবে মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট শনিবার জানান, মার্কিন বাহিনী হরমুজ় প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করছে। মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো জয়শঙ্করকে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, মার্কিন অবরোধ ভঙ্গ বা ইরানি তেলের পরিবহণ সহ্য করা হবে না।
গত কয়েক দিনে ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকবাহী একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। ১০ জুন পালাউ-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’-তে মার্কিন হামলায় ২৪ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ‘এমটি মারিভেক্স’-এ থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এছাড়া ‘এমটি জলবীর’ নামের আরেকটি জাহাজও হামলার শিকার হয়, যেখানে থাকা ভারতীয় নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাগুলির পর ভারত সরকার মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার এখনও কূটনৈতিক স্তরেই বিষয়টি মোকাবিলা করার পথে এগোচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর। সেখানে চলমান উত্তেজনা শুধু ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


