সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে দলীয় পরিচয় ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে আসতে পারে।তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ সংসদে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তাঁদের দাবি হতে পারে, প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব তাঁরাই করছেন। এই প্রসঙ্গেই প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যার ভিত্তিতে কে কতটা সমর্থন পাচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।সুদীপের মতে, এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি জানাচ্ছেন না। আপাতত তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গেই থাকবেন।তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর আবার আগের দলের পরিচয় দাবি করা কতটা আইনসঙ্গত। এই বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও সামনে এসেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। আদালত বিভিন্ন তথ্য, নথি এবং আইনি বিধান খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে। শুধুমাত্র সংখ্যার ভিত্তিতে কোনও রায় দেওয়া হয় না।অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত জানান, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি নির্বাচিত প্রতিনিধি একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কিন্তু দলের প্রতীক বা সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে যায়।তিনি আরও বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ও সংসদীয়—এই দুই স্তরের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যদি প্রতীকের দাবি জানায়, তখন নির্বাচন কমিশন তা পরীক্ষা করে দেখে। তদন্ত চলাকালীন কমিশন চাইলে উভয় পক্ষকে আলাদা প্রতীক ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারে।এদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষ মন্তব্য করতে চান না। পাশাপাশি প্রবীণ নেতার বয়সের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও উল্লেখ করেন।
২১ জুলাইয়ের আগে সংসদে ‘আসল তৃণমূল’ দাবির প্রস্তুতি সুদীপদের, জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
Popular Categories


