রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ পাঁচ বিধায়ক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্সি এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রায় এক ঘণ্টার এই আলোচনায় উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন।তৃণমূলের দাবি, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন পরিচিত নিরাপত্তারক্ষীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের নেতাদের বক্তব্য, এই নিরাপত্তারক্ষীরা বহু বছর ধরে নেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর দৈনন্দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবেই পরিচিত। তাই তাঁদের ফের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত বিধায়করা যুক্তি দেন যে শুধুমাত্র নিয়মের কথা ভেবে নয়, বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তাকর্মীরা থাকলে নেত্রীর নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে বলেই তাঁদের মত।অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় কোনও কাটছাঁট করা হয়নি। তিনি এখনও জেড প্লাস নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কাউকে স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয় বলেই সরকারি মহলের বক্তব্য।নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি বৈঠকে বিধানসভার কিছু প্রশাসনিক বিষয়ও উত্থাপন করা হয়। তৃণমূলপন্থী বিধায়করা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিধানসভায় কাজকর্ম পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।এছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়করা। তাঁদের বক্তব্য, বহু মানুষ বছরের পর বছর রাস্তার ধারে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে সরাসরি উচ্ছেদ করলে বহু পরিবার সমস্যার মুখে পড়বে। তাই আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরে উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশেই হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই আলোচনার বাস্তব ফলাফল কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করলেন মমতা-ঘনিষ্ঠ ৫ বিধায়করা
Popular Categories


