রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। ফলে এই মুহূর্তে স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। একাংশের তরফে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সামনে আনা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পিছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থনও ছিল বলে জানা যায়। পাশাপাশি উপ-বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ পদ নিয়েও একটি তালিকা স্পিকারের কাছে জমা পড়েছিল।তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। কয়েকজন বিধায়ক নিজেদের পৃথক অবস্থান জানিয়ে স্পিকারের কাছে অন্য প্রস্তাব জমা দেন। তাঁদের দাবি ছিল, অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। সেই দাবি খতিয়ে দেখে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত কয়েক দিন ধরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলে। শুনানির সময় স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল।মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। স্পিকারের পক্ষের আইনজীবী জানান, প্রথম যে চিঠি জমা পড়েছিল, তাতে বিধায়ক দলের বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য ছিল না। পরে সেই সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে কিছু নথি জমা দেওয়া হয়েছে, যা নাকি আসল নয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে দাবি করেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীর কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। সেই চিঠিতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিরোধী ব্লকের নির্বাচিত নেতৃত্বে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আগামী জুলাই মাসে ফের এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই এই নির্দেশ এসেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই রায়কে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বজায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে আগামী শুনানির ওপর।
Popular Categories


