কলকাতার তারাতলা এলাকায় বুধবার দুপুরে একটি বড়সড় দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নির্মাণাধীন একটি চায়ের গুদাম আচমকাই ভেঙে পড়ে। ঘটনায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন ট্রান্সডিপো এলাকার কাছে ওই বহুতল গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল। ভবনটির উপরের দুটি তলার ছাদ নির্মাণের কাজ আগেই শেষ হয়েছিল। বুধবার নিচের অংশে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই গোটা কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলে তখন বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধসে পড়ার মুহূর্তে প্রবল শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা নির্মাণ ভেঙে মাটিতে মিশে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। লোহার বিশাল কাঠামো ও বিম সরাতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আনা হয়েছে ভারী ক্রেন ও বিশেষ যন্ত্রপাতি। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে ড্রিলিং করেও ভিতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভেতর থেকে মাঝে মধ্যেই আটকে পড়া শ্রমিকদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তাঁদের সাহস জোগানোর পাশাপাশি খাবার ও জল পৌঁছে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। কয়েকজন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও সহায়তা শুরু হয়েছে। সেনার অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, ব্যবহৃত সামগ্রীর মান ঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করার পরই ধসের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। স্থানীয় এক বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, এলাকায় একাধিক অবৈধ নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাতা সংস্থার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা অবশ্য এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনও চলছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


