ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক জোটের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে থাকার পরেও কংগ্রেস প্রার্থীর পরাজয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জোটের ভিতরে ক্রস ভোটিংয়ের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এবার সেই ইস্যুতেই সরব হয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএন)।
রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য শাসক জোটের হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক ছিল। কিন্তু ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর দেখা যায়, বিজেপি-সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এরপরই জোটের কয়েকজন বিধায়ক বিপক্ষ শিবিরের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেএমএমের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জোটের অধিকাংশ বিধায়ক কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যে বিধায়কেরা জোটের সিদ্ধান্ত মেনে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে যাঁরা বিরোধী সমর্থিত প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও জানান, কোন কোন বিধায়ক জোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়েছেন, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এবিষয়ে সিপিআই(এমএল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমরা দায়িত্বের সঙ্গে বলতে পারি, জোটের পরিকল্পনা মেনে আমাদের দলের দু’জন বিধায়কই কংগ্রেস
প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’ অন্যদিকে আরজেডির তরফেও একই দাবি করা হয়েছে। দলের নেতা সঞ্জয় প্রসাদ যাদব বলেন, আরজেডির সমস্ত ভোট কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষেই পড়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের দল জোটের প্রতি সম্পূর্ণভাবে অনুগত থেকেছে।
আরজেডির সাধারণ সম্পাদক ভোলা যাদব আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, অন্যদের দিকে আঙুল তোলার আগে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ঘর সামলানো। তাঁর মতে, কোন বিধায়ক কোথায় ভোট দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
এই ঘটনার পর ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ক্রস ভোটিংয়ের অভিযোগ কতটা সত্য এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। আগামী দিনে এই বিতর্ক জোট রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


