পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যখন একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে শুভেন্দু তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
মহুয়ার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। কারণ বর্তমানে রাজ্যের শাসকদল নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সাংগঠনিক সমস্যার কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে মহুয়া বলেন, একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে কাজ করার সময় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সময়ে শুভেন্দু তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। সেই সহযোগিতার কথা তিনি এখনও মনে রেখেছেন।
মহুয়া ২০১৪ সালের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় তিনি লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুযোগ না পাওয়ায় তিনি খুবই হতাশ হয়ে পড়েন। সেই কঠিন মুহূর্তে শুভেন্দু তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এছাড়াও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতিও তুলে ধরেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তিনি জানান, করিমপুর কেন্দ্র থেকে প্রথমবার ভোটে লড়ার সময় দলের বড় নেতাদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায়নি। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সমর্থনে প্রথম প্রচারসভা করেছিলেন। ওই ঘটনার কথা এখনও তাঁর মনে রয়েছে বলে জানান মহুয়া।
সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে শুভেন্দু অধিকারীর কিছু আপত্তি ছিল। পরবর্তীকালে সেই মতপার্থক্য আরও বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। মহুয়ার বক্তব্য, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শুভেন্দু যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার পিছনে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়ও জড়িত ছিল।
তবে মহুয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বর্তমানে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ নেই। রাজনৈতিক অবস্থান এখন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও অতীতে পাওয়া সহযোগিতার কথা তিনি ভুলে যাননি। এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর মুখে শুভেন্দুর প্রশংসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও মহুয়ার ঘনিষ্ঠদের দাবি, এতে কোনও রাজনৈতিক বার্তা খোঁজার প্রয়োজন নেই। এটি শুধুমাত্র অতীতের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা।


