দক্ষিণ দিল্লিতে একটি ফুটপাথে ঘুমিয়ে ছিলেন এক পরিবার। রাত প্রায় ৫টা। হঠাৎই চিৎকারে ভেঙে যায় সব নিস্তব্ধতা। ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে চিৎকার করে উঠলো, “বাবা, আমাকে বাঁচাও!”। তার বাবা দৌড়ে গেলেন, কিন্তু ততক্ষণে একটি সাদা গাড়ি অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে। সেটাই ছিল শেষ কথা। এরপর ঘটে যায় এক নৃশংস ঘটনা।
সোমবার রাতে মেয়েটি তার বাবা-মা ও তিন ভাই-বোনের সাথে ফুটপাথে ঘুমাচ্ছিল। তখনই এক ক্যাব চালক গাড়ি নিয়ে সেখানে আসে। পুলিশ জানায়, চালক বাবলু মদ খেয়ে ছিল। সে অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চালায়।
মেয়ের চিৎকারে বাবা জেগে ওঠেন। তিনি ছুটে যান গাড়ির পিছনে, কিন্তু গাড়ি চলে যায়। এরপর তিনি পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ শুরু করে চার ঘণ্টার অনুসন্ধান। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে থাকে এবং গাড়ির খোঁজ করতে থাকে।
পুলিশ ফুটেজে গাড়িটি দেখতে পেলেও তার নম্বর দেখতে পায়নি। অনেক চেষ্টার পর তারা জানতে পারে গাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। সকাল ৪টায় গাড়ি আসে, আর মেয়েটিকে নেওয়া হয় প্রায় ৫টায়। পুলিশ অ্যাপ ক্যাব কোম্পানিগুলোর কাছে ওই এলাকার যাত্রীদের তালিকা চায়। আরও কিছু ক্যামেরা দেখে তারা গাড়িটি চিনতে পারে। গাড়ির জিপিএস ও বাবলুর মোবাইলের লোকেশন ধরে তারা পশ্চিম দিল্লির বিকাসপুরি এলাকায় গাড়িটি খুঁজে পায়।
জিজ্ঞাসাবাদে বাবলু হত্যার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, মেয়েটিকে নিয়ে সে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডে যায়। সেখানে এক নিঃসঙ্গ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে মেয়েটিকে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে ও তার স্কার্ফ দিয়ে গলা টিপে হত্যা করে। তারপর লাশ সেখানেই ফেলে রেখে চলে আসে।
ঘটনার পর বাবলু স্বাভাবিক কাজ করছিল। সে গুরুগ্রাম থেকে বিকাসপুরি পর্যন্ত এক যাত্রী তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে নামিয়ে দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সে হত্যার পরও স্বাভাবিক আচরণ করছিল, যেন কিছুই হয়নি। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে বিহারে ইতিপূর্বে মারামারি ও হামলার পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার বিহারে স্ত্রী ও সন্তান আছে।
পরের দিন পুলিশ যখন তাকে ঘটনাস্থলে নিচ্ছিল, তখন সে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের গুলিতে তার পায়ে গুলি লাগে। এখন অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে যে, কেন তারা অপরাধী চালক নিয়োগ দিলো।


