গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরে চলতে থাকা অম্বুবাচী মেলাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, মন্দিরমুখী রাস্তার ধারে ব্যবসা করা কয়েকজন মুসলিম বিক্রেতাকে একদল ব্যক্তি হেনস্থা করেছেন এবং তাঁদের দোকান বন্ধ করে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতি বছর অম্বুবাচী মেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। সেই সুযোগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসান। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে কয়েকজন বিক্রেতার অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি দোকানদারদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন। ভিডিওতে শোনা যায়, বিক্রেতাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং তাঁরা কেন হিন্দু ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রি করছেন, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যবসা বন্ধ করে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।
একজন বিক্রেতার দাবি, তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয় এবং পরিচয়পত্র দেখানোর জন্য জোর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঘটনার সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আক্রান্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকের মতে, ধর্মীয় উৎসব বা মেলার সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকা উচিত এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে, ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তর্ক-বিতর্কও শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। বিভিন্ন রাজ্যে মেলা ও ধর্মীয় উৎসবের সময় কিছু ব্যবসায়ীকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে গুয়াহাটির ঘটনাটিকেও অনেকেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছেন।
কামাখ্যা মন্দিরের অম্বুবাচী মেলা উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। চলতি বছরের মেলা ২২ জুন শুরু হয়ে ২৬ জুন পর্যন্ত চলেছে। আয়োজকদের দাবি, কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতি হয়েছে এই উৎসবে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অসম পুলিশ বা কামরূপ মেট্রো জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।


