মহারাষ্ট্রের নতুন নাগপুর পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই বিতর্কের মুখে পড়লেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার বিশ্বাস নাংরে পাটিল। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে একটি হিন্দু সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল সাকাল হিন্দু সমাজ নামে একটি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে অতীতে ঘৃণামূলক বক্তব্য সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বাস নাংরে পাটিল একটি সভায় বক্তব্য রাখছেন। অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের কাজের প্রশংসা করেন এবং নাগপুরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ভিডিওটি সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রের বিরোধী দল কংগ্রেস তীব্র সমালোচনা শুরু করে। কংগ্রেসের অভিযোগ, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের রাজনৈতিক বা আদর্শগতভাবে কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো উচিত নয়। দলটির নেতাদের দাবি, সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সংবিধানের প্রতি শপথ নেওয়ার পর একজন পুলিশ আধিকারিক কীভাবে কোনও বিশেষ মতাদর্শভিত্তিক সংগঠনের প্রশংসা করতে পারেন। একই সঙ্গে নাগপুরে তাঁর সাম্প্রতিক বদলিকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক কটাক্ষ করা হয়েছে।
যদিও এই বিতর্ক নিয়ে বিশ্বাস নাংরে পাটিল প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি নীরব থাকেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে শুধু তিনি নন, বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক এবং ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, পাটিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছেন। অতীতে তাঁকে ইফতার অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বাস নাংরে পাটিল মহারাষ্ট্র পুলিশের পরিচিত মুখ। ১৯৯৭ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। মুম্বইয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ২০০৮ সালের ২৬/১১ জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। পরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন।
এদিকে সাকাল হিন্দু সমাজ সংগঠনটিকেও ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকারের একটি হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম চার মাসে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই কারণেই এই সংগঠনের মঞ্চে একজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। সরকারি আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা এবং জনজীবনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে।


