গাজিয়াবাদে সামান্য মোটরবাইকের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের লোনি এলাকায় সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় বচসার জেরে ২০ বছরের এক যুবককে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত যুবকের নাম মহম্মদ জায়েদ। তিনি লোনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর প্রায় ৩টা নাগাদ জায়েদ তাঁর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্ধুকে নিয়ে মোটরবাইকে করে একটি সুইমিং পুলের দিকে যাচ্ছিলেন। লোনির বেহতা হাজিপুর আন্ডারপাসের কাছে যাওয়ার সময় তাঁদের বাইক একটি গাড়ির সঙ্গে সামান্য স্পর্শ করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, গাড়ির মালিক রাহুল নামে এক ব্যক্তি প্রথমে জায়েদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, রাহুল জোর করে জায়েদকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাহুল পেশায় সম্পত্তি ব্যবসায়ী। তিনি জায়েদকে নিজের অফিসে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে জায়েদকে ব্যাপক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে পরে উদ্ধার করা হয়।
জায়েদের সঙ্গে থাকা দুই কিশোর বন্ধু, যাদের বয়স প্রায় ১৫ ও ১৬ বছর, গাড়িটির পিছু নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তারা পরে জায়েদকে খুঁজে পায় এবং প্রথমে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জায়েদের ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুন ও হামলার মামলা রুজু করেছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বর্তমানে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে যানবাহন একদিক দিয়ে চলাচল করছিল। সেই সময়ই বাইক ও গাড়ির মধ্যে সামান্য ধাক্কার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
গাজিয়াবাদের গ্রামীণ এলাকার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সুরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তকে ধরতে একাধিক পুলিশ দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মারধরের সম্পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।


