প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের নীতির বিরোধিতা করা এবং প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকে।এই বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি পুরনো মন্তব্য। দেশের তরুণদের নিয়ে ‘আরশোলা’ শব্দটি ব্যবহার করার অভিযোগ ঘিরে একসময় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়। তরুণদের একাংশ নিজেদেরই ‘ককরোচ’ পরিচয় দিয়ে সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছিলেন।এ বার প্রধানমন্ত্রীর ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যও একই ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রকাশ্যেই এই তকমা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা করা বা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলাকে এ ভাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য চিন্তার বিষয়।শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সমাজমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়েছে প্রতিবাদ। ‘দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’ নামে একটি নতুন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটির অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লক্ষে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একই নামে এক্স-এও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার তা ফিরে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন নামে আরও অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রচার চালানো শুরু হয়।বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, এই শব্দবন্ধ সব বিরোধীর জন্য ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু শক্তির কথা বলেছেন, যাদের অবস্থানকে সরকার দেশবিরোধী বলে মনে করে। ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতার মতো বিষয়ও তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও পাল্টা আক্রমণ করেছেন। পি চিদম্বরম নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদীও একই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন। দলের সাংসদ ব্রিজ লাল বলেন, অস্ত্র হাতে না থাকলেও কিছু মানুষের চিন্তাভাবনা বিপজ্জনক হতে পারে।তবে এই ব্যাখ্যাতেও বিতর্ক থামেনি। মূল প্রশ্ন এখন একটাই—সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষিত সমাজের প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করাকে কেন এমন তকমার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে? রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে এই প্রশ্নই ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক বিতর্কের রূপ নিচ্ছে।
‘দিমাগি নকশাল’ তকমা ঘিরে ক্ষোভের মুখে মোদি সরকার! লক্ষাধিক ফলোয়ার বাড়তেই গায়েব ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল
Popular Categories


