দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে কয়েক হাজার স্কুলের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। গড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই এক ডজনের বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলের মধ্যে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন (ইউডিআইএসই প্লাস)-এর প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, গত শিক্ষাবর্ষে দেশের মোট ৪ হাজার ৭৯১টি স্কুল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রদেশে। ওই রাজ্যে একাই ২ হাজার ৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। এছাড়া তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৮২-এ। আগের শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ১৪ লক্ষ ৭১ হাজার ৪৭৩। ফলে কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, পরিকাঠামোগত সমস্যা, গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা হ্রাস এবং সরকারি স্কুলের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো নানা কারণ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখানে ভর্তি করাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর ফলে সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা ক্রমশ কমছে।তবে শিক্ষামন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, বহু রাজ্যে ছোট ছোট স্কুলকে একত্রিত করে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। এই সংযুক্তিকরণের কারণেই স্কুলের মোট সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর মত।অন্যদিকে, সব রাজ্যে একই চিত্র দেখা যায়নি। বিহার, ছত্তিশগড় এবং দিল্লিতে স্কুলের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। যদিও এই রাজ্যগুলিতেও ছাত্রভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে বিহারে কয়েক লক্ষ পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।রিপোর্টে একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। এমন স্কুলের সংখ্যা কমেছে যেখানে একজনও ছাত্রছাত্রী ভর্তি নেই। গত শিক্ষাবর্ষে এই ধরনের স্কুলের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি, যা বর্তমানে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৬৬৩-তে। পাশাপাশি মাত্র একজন শিক্ষক নিয়ে চলা স্কুলের সংখ্যাও আগের তুলনায় কমেছে। তবে শিক্ষা মহলের মতে, স্কুলের সংখ্যা হ্রাস এবং ছাত্রভর্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিদিন বন্ধ থাকছে ১৩টি স্কুল, বেশিরভাগই মধ্যপ্রদেশে! সরকারি রিপোর্টে উঠে এলো দেশের শিক্ষার উদ্বেগজনক চিত্র
Popular Categories


