মধ্যপ্রদেশের সিঙ্গরৌলি জেলায় একটি কয়লাখনি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রকল্পের অনুমোদন পেতে গ্রামসভার নথিতে গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।সিঙ্গরৌলির ধিরাউলি এলাকায় প্রস্তাবিত কয়লাখনি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় গ্রামবাসীদের সম্মতি প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে জমি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গ্রামসভার মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়াতেই কারচুপির অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস।দলের দাবি, প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য যে নথি জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে এমন কিছু ব্যক্তির নাম রয়েছে যাঁরা বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। অথচ সরকারি কাগজপত্রে তাঁদের উপস্থিতি এবং সম্মতির উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই নথিতে তাঁদের আঙুলের ছাপও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, আদিবাসী মানুষের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।আদিবাসী সংগঠনের নেতারাও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার মানুষ জমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করলে প্রশাসনের তরফে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে বড় শিল্প প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।কংগ্রেসের দাবি, তথ্যের অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সেখানে এমন ব্যক্তিদের সম্মতির উল্লেখ রয়েছে, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বৈঠক হওয়ার বহু আগেই মারা গিয়েছিলেন। এই তথ্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে।এদিকে সিঙ্গরৌলির এই কয়লাখনি প্রকল্পের বিরোধিতায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এলাকার একাংশের মানুষ। সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের কয়েকজন প্রতিনিধি দিল্লিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা জমি, বন এবং জীবিকার উপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
Popular Categories


