মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-র আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা স্থগিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শুক্রবার এই পদক্ষেপের ফলে দলটির মোট ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, এই সমস্ত অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে স্থগিত করা ১২টি অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য এবং সেগুলিতে হওয়া আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণও চাওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ঠিক আগের দিন কলকাতা হাইকোর্ট টিএমসি-কে তাদের তিনটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আংশিকভাবে পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, দলটি শুধুমাত্র দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যয়, কর্মীদের বেতন এবং আইনি খরচের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রতিটি চেকে বিশেষ কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর বাধ্যতামূলক থাকবে। পাশাপাশি বিশেষ কর্মকর্তাকে মাসিক ১.২৫ লক্ষ টাকা সম্মানী দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে পুলিশের তরফে তিনটি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল টিএমসি। তবে আদালতের আংশিক অনুমতি মিললেও সেই ৪৪০ কোটি টাকার তহবিল এখনও ব্যবহার করতে পারেনি দল। কারণ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় ওই তিনটি অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে রেখেছে।
ইডি-র এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন আবেদন করেছে টিএমসি। প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে জরুরি শুনানির আবেদন জানান। তাঁর দাবি, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আগের নির্দেশ মূলত পুলিশের তদন্ত ও তথাকথিত ‘প্রেডিকেট অফেন্স’-সংক্রান্ত ছিল। অন্যদিকে, নতুন মামলাটি পিএমএলএ-র অধীনে ইডি-র পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করছে। আদালত জানিয়েছে, বিষয়টির শুনানি সোমবার হবে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর টিএমসি-র এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সংগঠনের অভ্যন্তরে গুরুতর মতবিরোধের অভিযোগ তুলে ব্যাঙ্কগুলিকে দলের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কাছেও অভিযোগ দায়ের করে তারা এবং দলের তহবিলের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি তোলে। এরপরই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
অন্যদিকে, একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা, একটি এমব্রায়ার বিজনেস জেট এবং একটি অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার কথিত অর্থ পাচারের তদন্তের অংশ হিসেবেই ইডি সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

