আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেল। সোমবার, ১৩ জুলাই, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৮ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহেও এই তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। একই সময়ে আমেরিকার WTI ক্রুডের দাম প্রায় ৭৪ ডলারের আশপাশে ছিল।
এই দাম বাড়ার মূল কারণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ করা হয়। ইরান জানিয়েছে, তারা এই পথ বন্ধ করেছে। তবে আমেরিকার সেনাবাহিনী সেই দাবি মানেনি। তাদের বক্তব্য, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা অভিযান চালিয়েছে।
গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সামরিক হামলা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, ইরানের আক্রমণের জবাবেই তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বাহিনীর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানির বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও মজুতের ওপর প্রভাব পড়বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস যায়। তাই এই এলাকায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্রগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
এদিকে, ইরান ও আমেরিকা—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। তবে আলোচনার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।


