Sunday, August 30, 2026
29 C
Kolkata

চাকরি নিয়মিতকরণের দাবিতে স্বস্তি পেলেন না পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা কর্মীরা, ৩৬০ জনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মীদের একটি বড় অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত প্রায় ৩৬০ জন কর্মীর দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। চাকরি নিয়মিতকরণ এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এ জি মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালত জানায়, মোট আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রথমে ১৩টি মামলাকে নমুনা হিসেবে বেছে নিয়ে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। বিচারপতিরা বলেন, যদি এই ১৩ জনের মধ্যে কারও দাবিতে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যেত, তাহলে বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত মনে করেছে, ওই ১৩টি মামলার কোনওটিতেই আইনি ভিত্তিতে স্বস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু ১৩ জন নয়, বাকি সমস্ত আবেদনকারীর দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সব আবেদনই খারিজ করা হচ্ছে। আদালতের মতে, এই মামলাগুলিতে এমন কোনও উপাদান পাওয়া যায়নি যা আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা মিলিতভাবে প্রায় ৪৮টি পৃথক আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজ্য সরকারের অনুদান প্রকল্পের আওতায় বকেয়া অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত বহু বছর আগে। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন চালু হয়। ওই আইনের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্দিষ্ট কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয়। ২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট আইনটি বাতিল ঘোষণা করলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনটির বৈধতা বহাল রাখে।

এরপর ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির কাজ ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হওয়া নিয়োগগুলি বৈধ কি না তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের পর কমিটি জানায়, সেই সময়ে হওয়া বেশ কিছু নিয়োগ নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। এর প্রতিবাদেই ক্ষুব্ধ কর্মীরা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

Hot this week

‘হাত কেটে নেব’ – মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাইয়ের আতঙ্কে সহকর্মীদের হুমকি জুয়েল ওরাঁও-র

নিজের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ষড়যন্ত্র চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ...

৩৭ কোটি তরুণ-তরুণী, তবু ৮.৭ কোটি শিক্ষা-চাকরি নেই — সংকটে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ

প্রতি বছর প্রায় এক কোটি তরুণ চাকরির বাজারে ঢোকেন।...

ইরান যুদ্ধের আঁচ আমেরিকায়! কমছে ট্রাম্পের জনসমর্থন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে।...

কোনও প্রশ্ন ফাঁস হয়নি – সংসদীয় কমিটির কাছে এমনটাই দাবি শিক্ষামন্ত্রকের!

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দাবি, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল টেস্টিং...

Topics

‘হাত কেটে নেব’ – মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাইয়ের আতঙ্কে সহকর্মীদের হুমকি জুয়েল ওরাঁও-র

নিজের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ষড়যন্ত্র চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ...

ইরান যুদ্ধের আঁচ আমেরিকায়! কমছে ট্রাম্পের জনসমর্থন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে।...

কোনও প্রশ্ন ফাঁস হয়নি – সংসদীয় কমিটির কাছে এমনটাই দাবি শিক্ষামন্ত্রকের!

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দাবি, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল টেস্টিং...

প্রসবের পরই মা ও সদ্যোজাতের মৃত্যু, বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে সরকারি হাসপাতালে গাফিলতির অভিযোগ

প্রসবের জন্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক গর্ভবতী মহিলা।...

ফের ভিজবে বাংলা! শনিবারই সাগরে নিম্নচাপ, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি

বঙ্গোপসাগরে শনিবার নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।...

Related Articles

Popular Categories