বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে নরেন্দ্রপুর থানার হেফাজত থেকে আদালতে নিয়ে আসা হলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নামেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সেই আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনের সময় কিছু মানুষকে উত্তেজিত করার অভিযোগ রয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, বিক্ষোভের সময় জনতার একাংশের সঙ্গে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এই ঘটনার পরই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে আদালতে যাওয়ার পথে লাহেক আলি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনও ধরনের হিংসা, ভাঙচুর বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ছিল না। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এদিকে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজ্যের এক মন্ত্রী বলেন, আইন নিজের পথে চলবে। যাঁরা হিংসা, ভাঙচুর বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় উসকানি দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে সিপিআইএম নেতৃত্ব এই গ্রেপ্তারের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের অভিযোগ, মূল অপরাধীদের ধরার পরিবর্তে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, জনগণের ক্ষোভ এবং আন্দোলনকে দমিয়ে দিতেই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে।
দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চুপ করানোর জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় লাহেক আলিই প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তি যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


