মেয়েদের শ্লীলতাহানি বা ইভটিজিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ক্যারাটে-কুংফু শেখানোর আড়ালেই যে এমন নারকীয়তা চলতে পারে, তা ভেবেই আঁতকে উঠছে তিলোত্তমা। দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক এলাকার একটি নামী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের (এনজিও) হস্টেলে নাবালিকাদের ওপর লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো মার্শাল আর্ট শিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে। ধৃত ব্যক্তি ওই হস্টেলের কোষাধ্যক্ষের পদেও আসীন ছিল।
যে সমস্ত অনাথ বা অসহায় নাবালিকারা ওই হোমে থেকে পড়াশোনা করত, তাদেরই আত্মরক্ষার পাঠ দিত প্রসেনজিৎ। অভিযোগ, ক্যারাটে শেখানোর অছিলায় সে ছাত্রীদের কুৎসিতভাবে স্পর্শ করত। ভয়ে অনেকেই মুখ খোলার সাহস পায়নি। কিন্তু রবীন্দ্র সরোবর এলাকার এক নির্যাতিতা কিশোরী শেষমেশ সাহসের পরিচয় দেয়। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর গত বছর সে এই হস্টেলে এসেছিল। অভিযোগ, দিনের পর দিন তাকে আলাদা ক্লাসের নাম করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে হুমকি দিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহ চালাত প্রসেনজিৎ।
টানা কয়েক মাস এই অত্যাচার সহ্য করার পর কিশোরীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। হস্টেলের অন্য এক শিক্ষিকার নজরে বিষয়টি আসায় তিনি সহানুভূতির সাথে জানতে চাইলে নির্যাতিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে সব সত্যি উগরে দেয়। এরপরই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লুসি) হস্তক্ষেপে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। যেহেতু ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক, তাই রবীন্দ্র সরোবর থানা থেকে একটি জিরো এফআইআর দায়ের করে মামলাটি সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়। পকসো আইনে অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আর কোনো নাবালিকা এই লালসার শিকার হয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতকে জেরা করছে পুলিশ।


