শ্রাবণ মাসকে সামনে রেখে শিবভক্তদের জন্য একাধিক বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবারের শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বরগামী পুণ্যার্থীদের জন্য নানা ধরনের পরিষেবা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শ্রাবণের প্রতিটি সোমবার ভক্তদের স্বাগত জানাতে আকাশপথে ফুল ছড়ানোর ব্যবস্থাও করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, হুগলির শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত যে দীর্ঘ পথ ধরে হাজার হাজার মানুষ জল নিয়ে পদযাত্রা করেন, সেই পথে ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একাধিক সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর এই কেন্দ্রগুলি থাকবে, যেখানে বিশ্রাম নেওয়া, পানীয় জল সংগ্রহ করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রাবণ মাসে ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হবে। যাত্রাপথে ক্লান্ত হয়ে পড়া পুণ্যার্থীদের জন্য ওআরএস, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিশ্রামের স্থান রাখা হবে। এর ফলে দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা ভক্তদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় মেলা উপলক্ষে সরকার দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। তবে শ্রাবণ মাসে শিবভক্তদের জন্য এবার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিবতীর্থকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হুগলির তারকেশ্বর, জলপাইগুড়ির জল্পেশ এবং উত্তরবঙ্গের জয়ন্তী এলাকার একটি প্রাচীন শিবমন্দির।
এদিকে তারকেশ্বর মন্দির চত্বরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। মন্দির এলাকার পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য আরও ভালো ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার তারকেশ্বর সফরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া আগামী ১৬ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইসকনের রথযাত্রা উৎসবেও তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


