যোগগুরু বাবা রামদেবের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতে বসবাসকারী মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর দাবি, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দেশের মানুষের ঐতিহাসিক শিকড় এক এবং সেই বিষয়টি মনে রাখা উচিত।
রামদেব তাঁর বক্তব্যে ২০০৯ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই সময় উত্তরপ্রদেশের একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেখানে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের বিশ্বাস ও আচার-আচরণ আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের পূর্বসূরিদের মধ্যে মিল রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি আবারও বলেন, ভারতীয় সমাজের মধ্যে বিভেদের বদলে ঐক্যের বার্তা ছড়ানো দরকার।
যোগগুরুর মতে, ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে অযথা ভয় বা ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি মানুষকে নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, পোশাক বা ব্যক্তিগত জীবনযাপন নয়, একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি দেশের সব মানুষের ঐতিহ্যকে এক বলে মনে করা হয়, তাহলে সমাজে বারবার বিভাজনের পরিবেশ কেন তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সমাজবাদী পার্টির নেতা ফখরুল হাসান চাঁদও এই বিতর্কে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্যই মাঝে মাঝে এমন বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আনা হয়।
সব মিলিয়ে, বাবা রামদেবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকরা একে ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখলেও সমালোচকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারে।


