বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে ভেজাল খাদ্যপণ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার সামনে এল নকল দুধ তৈরির এক বড় চক্রের ঘটনা। রাজ্যের ধারাশিব জেলার ভূম এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি কারবারের হদিশ পেয়েছে পুলিশ এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। তদন্তে উঠে এসেছে, গত কয়েক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হিসাবের খাতা ও বিক্রির নথি খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। সেই নথি অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের দুধের গুঁড়ো ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে দুধ তৈরি করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এইভাবে তৈরি হওয়া দুধের পরিমাণ কয়েক কোটি লিটারেরও বেশি হতে পারে। বাজারে এর আর্থিক মূল্যও কয়েক কোটি টাকার বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসল দুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ নকল দুধ মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রি করা হত। সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে এই ভেজাল সহজে বোঝা সম্ভব ছিল না। কারণ, দুধের রং ও ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখার জন্য বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কৃত্রিম দুধ তৈরির সময় ডিটারজেন্ট, পাম তেল এবং অন্যান্য নিম্নমানের রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হত। এই উপাদানগুলি দুধকে দেখতে অনেকটাই আসল দুধের মতো করে তুললেও তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এমন দুধ খেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
ঘটনার পর সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযানের কয়েক দিন কেটে গেলেও অভিযুক্তদের এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের খোঁজে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন সম্ভাব্য জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধের গুঁড়োও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রের সঙ্গে একাধিক দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র এবং সরবরাহ ব্যবস্থার যোগ থাকতে পারে। তাই গোটা নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কতদিন ধরে এই বেআইনি ব্যবসা চলছিল এবং আরও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা গেলে এই চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মহারাষ্ট্র জুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


