বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে ছাত্রাবাস পরিচালনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্যের বিধানসভায় সম্প্রতি জমা দেওয়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) রিপোর্টে দেখা গেছে, কয়েকটি ছাত্রাবাসে কোনও আবাসিক না থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নজরদারি ও সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ছয়টি ছাত্রাবাসে বাস্তবে কোনও শিক্ষার্থী থাকেন না। কোথাও ভবন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, আবার কোথাও ঘরবাড়ি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। তবুও গত চার বছরে এই প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকার বেশি অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে।
ক্যাগের তদন্তে জালনা জেলার একটি ছাত্রাবাসের চিত্র বিশেষভাবে উঠে এসেছে। নথিপত্রে সেখানে কয়েক ডজন ছাত্র এবং একজন তত্ত্বাবধায়কের নাম থাকলেও বাস্তবে ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে নিরীক্ষকরা দেখতে পান, সেখানে কোনও শিক্ষার্থী বসবাস করছে না। অথচ প্রতি বছর নিয়মিতভাবে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। জালনা জেলাতেই আরও কয়েকটি একই ধরনের ছাত্রাবাসের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া বুলধানা ও লাতুর জেলাতেও এমন উদাহরণ পাওয়া গেছে।
শুধু অনুদানপ্রাপ্ত বন্ধ ছাত্রাবাসই নয়, চালু থাকা অনেক হস্টেলের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু জায়গায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল না থাকায় অনেককে মেঝেতে বসে খাবার খেতে হয়। নিরাপদ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার কিংবা নজরদারির জন্য সিসিটিভির মতো মৌলিক সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু হস্টেলে তাঁদের জন্য ওপরের তলায় কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে, যা চলাফেরার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া মেয়েদের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি ছাত্রাবাসে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পুরুষ সুপার নিয়োগের তথ্যও সামনে এসেছে।
রাজ্যজুড়ে সরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত বহু ছাত্রাবাসের মধ্যে কয়েকটির ওপর সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়েছে।


