উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের কিং জর্জ’স মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (কেজিএমইউ)-এ হস্টেল ও ক্যান্টিনে আমিষ খাবার রান্না বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশ জারি করে জানায়, ক্যাম্পাসের হস্টেল এবং ক্যান্টিনে আর আমিষ খাদ্য প্রস্তুত করা যাবে না। তবে বাইরে থেকে খাবার এনে খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিন এবং চিফ প্রোক্টরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তাঁদের অনুমোদনের পরই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। যদিও এই নির্দেশ শুধুমাত্র রান্নার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বাইরে থেকে আমিষ খাবার কিনে এনে খেতে পারবেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল তথা প্রতিষ্ঠানের আচার্য আনন্দীবেন প্যাটেলের সফরকে কেন্দ্র করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হস্টেল ঘুরে দেখেন এবং খাদ্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সময় কয়েকটি হস্টেলের রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রাজ্যপালের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি হস্টেলে আমিষ খাবার তৈরি হলেও সেখানে যথাযথ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছিল না। রান্নাঘরের সামগ্রিক অবস্থা এবং খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এমনকি কিছু জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ মশলার প্যাকেটও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে খাবারের মান এবং রান্নার পরিবেশের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই পরিদর্শনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে হস্টেল ও ক্যান্টিনে আমিষ রান্না আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনওভাবেই আমিষ খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেননি। তাঁর মূল উদ্বেগ ছিল খাদ্যের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা।
এদিকে নতুন নিয়মকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, কিন্তু তার জন্য আমিষ রান্না বন্ধ করা সমাধান নয়। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, রান্নাঘরের মানোন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা উচিত।
কেজিএমইউ-র এই সিদ্ধান্ত এখন শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।


