মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলায় কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পকে ঘিরে আদিবাসী পরিবারগুলির ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। নিজেদের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত নয় দিন ধরে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বহু গ্রামবাসী। বারানা নদীর সেতুর নীচে তাঁরা ‘চিতা আন্দোলন’ নামে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রকল্পের কারণে বহু পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বারবার আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেনি।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক গ্রামবাসী জানান, বহু মানুষ জমি ও বাড়ি হারানোর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কথা শোনার মতো কেউ নেই। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে শুধু আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এর আগেও তাঁরা বেতওয়া খাল এবং বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতির কোনও বাস্তব ফল দেখা যায়নি। ফলে এবার আর শুধুমাত্র আশ্বাসে ভরসা করতে রাজি নন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত দাবি পূরণ না হলে তাঁরা আরও কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় পান্না টাইগার রিজার্ভ এলাকায় কেন নদীর উপর একটি বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জল পরিবহণের জন্য তৈরি হবে দীর্ঘ খাল ও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা।
সরকারের দাবি, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ ও পানীয় জলের সুবিধা পৌঁছে যাবে। প্রায় দুই হাজার গ্রামের কৃষক পরিবার এর সুফল পাবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, জলসংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের মতে, দীর্ঘদিনের জলসংকটে ভোগা বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের পরিস্থিতি বদলাতে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। তবে উন্নয়নের এই পরিকল্পনার মাঝেই জমি হারানোর আশঙ্কায় থাকা বহু আদিবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি, অন্যদিকে উচ্ছেদের ভয়— এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এখন উত্তপ্ত ছতরপুর।


