অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে বিজেপি নেতাদের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার স্পিকার সতীশ মহানা। তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।সতীশ মহানা বলেন, যাঁরা ভক্তিভরে ঈশ্বরের উদ্দেশে দান করেন, তাঁদের মনে দানের অর্থ হারিয়ে যাওয়ার ভাবনা আসে না। তাঁর মতে, প্রকৃত বিশ্বাস নিয়ে কেউ যদি দান করেন, তবে পরে সেই অর্থ চুরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নেই। এই মন্তব্যের পর সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, তিনি চুরির মতো গুরুতর ঘটনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।স্পিকার আরও বলেন, মানুষের দেওয়া অর্থ নষ্ট হয়নি। সেই অর্থ মন্দির নির্মাণের কাজেই ব্যবহার হয়েছে এবং আজ যে বিশাল ও সুন্দর রামমন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটিই তার প্রমাণ। তাঁর দাবি, ভক্তদের অবদান মন্দিরের অংশ হয়ে রয়েছে।এদিকে রামমন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনাকে ঘিরে তদন্তও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধৃতদের কয়েকজন মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ট্রাস্টের কিছু সদস্যের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর চুরি হওয়া অর্থ ভক্তদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে সতীশ মহানা বলেন, কেউ একবার ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দান করলে সাধারণত সেই অর্থ ফেরত চান না। তাঁর মতে, দান মানেই তা সমাজ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করা। তবে যদি কেউ মনে করেন তাঁর দেওয়া অর্থের অপব্যবহার হয়েছে, তাহলে সেই বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এই ঘটনায় যারা দোষী, তাদের পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু কয়েকজনের অপরাধের জন্য পুরো রামজন্মভূমি আন্দোলন বা তার সঙ্গে যুক্ত সব মানুষকে দোষী বলা ঠিক নয়।অন্যদিকে, রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দদেব গিরি দাবি করেছেন, মন্দির থেকে ১৩ কোটি টাকা চুরির যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক হিসাবে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ চার কোটির কিছু বেশি হতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি তদন্তও জোরকদমে চলছে। এখন সকলের নজর রয়েছে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
“যাদের টাকা চুরি হয়েছে তারা ভক্তি নিয়ে রামলালাকে দান করেনি” উত্তরপ্রদেশের স্পিকার সতীশ মহানার মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক
Popular Categories


