নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৯ দিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাঁর শরীরে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, একজন নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। আদালতের নির্দেশের পর সরকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও রাষ্ট্রমন্ত্রী সোনমের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছেন সোনম ওয়াংচুক।
ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অনশন ভাঙার অনুরোধ না করে মানুষকে আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও ওঠে আন্দোলনের মঞ্চ থেকে।
এদিকে সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানাতে যন্তর-মন্তরে পৌঁছন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব। কেজরিওয়াল বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যাঁর এত উদ্বেগ, তাঁকে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রতিদিন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সোনমের চিকিৎসক ডাঃ সতীশ লাম্বা জানিয়েছেন, গত ১৯ দিনে তাঁর ওজন প্রায় ৯ কেজিরও বেশি কমেছে। বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৬ কেজি ৯০০ গ্রাম। রক্তচাপও স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে। তবে শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন এবং আন্দোলনের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।


