পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলেই তাঁকে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
বুধবার একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট এই মন্তব্য করে। আদালতের মতে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। কোনও ব্যক্তি আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তিনি সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকারী থাকবেন। শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন রাজ্য সরকারের তরফে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা বিনামূল্যে রেশন পাবেন না। এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকজন নাগরিক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার অন্যতম আবেদনকারী মহিবুল্লা মণ্ডল আদালতে দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে তিনি নির্ধারিত ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মতো মানুষদের রেশনসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কোনও প্রক্রিয়া চললেও তা সরাসরি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত নয়। একজন ব্যক্তি আইন অনুযায়ী যোগ্য হলে তাঁকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তবে আদালত এই মামলায় আবেদনকারী মহিবুল্লা মণ্ডলের জন্য আলাদা কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেনি। অর্থাৎ তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও ছাড় বা সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ আদালত দেয়নি। তবে আদালতের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যের পর এসআইআর নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক অবস্থান এবং জনকল্যাণ প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে।


