অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের একাধিক জেলায় মহিলাদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুরুলিয়া, মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার সরকারি দফতরের সামনে জড়ো হন বহু মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের আগে প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা আসেনি। কারও আবার প্রথম কিস্তির পর আর টাকা মেলেনি।
পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডের মহিলারা জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের অনেকের দাবি, আবেদন করার পরেও সরকারি পোর্টালে সঠিক তথ্য দেখা যাচ্ছে না। কোথাও ‘আন্ডার প্রসেস’, কোথাও ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ দেখাচ্ছে। আবার কয়েকজনের দাবি, আবেদন করার পর সেটি জমাই হয়নি বলে পোর্টালে দেখানো হচ্ছে।
পুরুলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পিঙ্কি মাঝি জানান, তিনি বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। তাঁর স্বামী অসুস্থ। তাই সরকারি সাহায্যের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে। অথচ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবেদন যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। সূর্যসেন পল্লির গীতা মণ্ডলের দাবি, তাঁর বাড়িতে দু’টি ঘর থাকলেও সমীক্ষার রিপোর্টে তিনটি ঘর দেখানো হয়েছে। এর জেরে তিনি সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে কোয়েল মণ্ডলের বক্তব্য, তাঁর স্বামীর সরকারি চাকরি প্রায় দেড় বছর আগে চলে গেলেও পোর্টালে এখনও তাঁকে চাকরিজীবী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে তাঁর আবেদনও আটকে রয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলারা এসডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। পরে অফিসের কিছু অংশে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে ডিএম অফিসের সামনে রাস্তা আটকে প্রতিবাদ করেন তাঁরা।
গঙ্গারামপুরেও পুরসভার সামনে বিক্ষোভের পর ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় আধঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মালদহের পুরাতন মালদহ এবং ইংরেজবাজারেও অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিলারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলিও।


