উত্তরপ্রদেশে ট্রেনের মধ্যে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মদ্যপ কয়েকজন যাত্রী ওই তরুণকে বার বার মদ্যপ খাওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় প্রথমে আসন বদল করেন। পরে অন্য কামরায় চলে গেলেও রেহাই মেলেনি। ঘটনাটি মীরট থেকে দেওবন্দ যাওয়ার পথে ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
মুনতাজির নামে ওই ছাত্র দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনা করেন। মীরট থেকে ট্রেনে উঠে তিনি নিজের মতো করে বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যাত্রী তাঁর কাছে এসে মদ্যপ খাওয়ার প্রস্তাব দেন। মুনতাজির সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তাঁকে বার বার একই কথা বলা হলে তিনি নিজের জায়গা পরিবর্তন করেন।
অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে অনুসরণ করে পাশের কামরায় পৌঁছে যান। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় কথা বলা হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মুনতাজির ফের সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই তাঁকে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে জোর করে খতৌলি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকাও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। সিওয়ান, বিহারের বাসিন্দা ৩০ বছরের মাওলানা তৌসিফ রাজা মাজহারি পেশায় ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তাজুশ শরিয়ার উরসে যোগ দিতে তিনি বেরেলি গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বেরেলি রেলস্টেশনের কাছে তাঁকে কয়েকজন যাত্রী মারধর করে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেন বলে অভিযোগ।
তাঁর স্ত্রী তাবাসসুম খাতুনের দাবি, হামলার সময় ভয় পেয়ে স্বামী তাঁকে ভিডিও কল করেছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছিল। নিজের পরিচয় বোঝাতে তিনি সঙ্গে থাকা বই ও ব্যাগ দেখিয়েছিলেন এবং নিজেকে শিক্ষক বলে জানিয়েছিলেন। স্ত্রী ফোনের মাধ্যমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরপর এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সহযাত্রীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পরিচয় বা পোশাকের কারণে কোনও যাত্রীকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই ঘটনাতেই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।


