উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর জেলায় একটি মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার, ২৩ অগস্ট ফুলত গ্রামে দারুল উলুম রহিমিয়া নামে ওই মাদ্রাসাটি ভেঙে দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, তদন্তে মাদ্রাসাটিকে বেআইনি নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে যে জমির উপর সেটি তৈরি হয়েছিল, সেটিকেও সরকারি জমি বলে ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্ব দফতরের তরফে জমি ও মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই তদন্তে মাদ্রাসাটি বৈধ অনুমতি ছাড়াই তৈরি হয়েছে বলে উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বুলডোজার চালিয়ে পুরো নির্মাণটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদ্রাসার দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা হিফজ়ুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্ত চলছিল। সেই মামলায় তাঁর দুই ছেলে জুবের ও জুনেইদকেও অভিযুক্ত করা হয়। পরে তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের সময়ই মাদ্রাসাটি যে জায়গায় তৈরি হয়েছিল, সেই জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর গত ১৭ অগস্ট জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরই মাদ্রাসা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
মাওলানা হিফজ়ুর রহমান এবং তাঁর দুই ছেলেকে গত ৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ এবং ৩৫১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তর বিরোধী আইন, ২০২১-এর ধারাতেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তি বিঘ্নিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে অপমান এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তের সময়ই মাদ্রাসার জমি ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে জমির মালিকানা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি যাচাই করা কতটা জরুরি, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মাদ্রাসা ভাঙার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোনও বড় ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।


