দেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা ও চাকরি নিয়ে হতাশা যে বাড়ছে, তারই একটি উদ্বেগজনক ছবি উঠে এল নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি প্রায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ-তরুণী বর্তমানে পড়াশোনা, চাকরি বা কোনও ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের পিছনে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমস্যা অন্যতম কারণ বলে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই রিপোর্ট সেই বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক তরুণ পছন্দের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। পরিবারের উপর পড়াশোনার খরচের চাপ এবং উপার্জনের অনিশ্চয়তা তাঁদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই যে চাকরি মিলছে না, সেই বিষয়টিও রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্নাতকদের মাত্র ৮.২৫ শতাংশ এমন কাজে যুক্ত, যা তাঁদের পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বর্তমানে স্নাতক স্তরে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ পড়ুয়া পড়াশোনা করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক কোটি বিএ কোর্সে রয়েছেন। বিএ, বিএসসি এবং বিকম মিলিয়ে সাধারণ ডিগ্রি কোর্সে পড়ুয়ার সংখ্যা ২ কোটির বেশি। কিন্তু এই ধরনের পড়াশোনার সঙ্গে নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অনেক সময় মিল থাকছে না।
চাকরির বাজারে এখন শুধু ডিগ্রি থাকাই যথেষ্ট নয়। অফিসের কাজের জন্য ট্যালি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বা অন্যান্য ব্যবহারিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। অথচ বহু ক্ষেত্রে কলেজের পাঠ্যক্রমে এই বিষয়গুলির পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। ফলে ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট হাতে থাকার পরেও চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব থেকে যাচ্ছে তরুণদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলিকে চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে নীতি আয়োগ। যাঁরা কোনও কাজ বা প্রশিক্ষণে নেই, তাঁদের জন্য কম খরচে বা ভর্তুকির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বনির্ভরতার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। তাঁর অভিযোগ, দেশে একদিকে বহু সরকারি পদ খালি পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে কোটি কোটি তরুণ কাজ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে দূরে। তাঁর দাবি, প্রচারের বদলে তরুণদের জন্য বাস্তব চাকরির সুযোগ, সাশ্রয়ী শিক্ষা এবং কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তরুণদের বড় অংশ যদি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যায়, তা দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির জন্যও বড় চিন্তার কারণ। সরকারি রিপোর্টে উঠে আসা এই তথ্য তাই কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাই সামনে আনছে।


