প্রতি বছর প্রায় এক কোটি তরুণ চাকরির বাজারে ঢোকেন। কিন্তু সেই তুলনায় সুযোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি নিয়োগে দেরি, প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ যেমন অনিশ্চয়তা বাড়ায়, তেমনই বেসরকারি ক্ষেত্রেও নতুনদের নিয়োগ কমেছে। গত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ফ্রেশার নিয়োগ প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। AI ও অটোমেশনও বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন।
ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণদের সংখ্যা প্রায় ৩৭ কোটি। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশই এই প্রজন্মের। কিন্তু এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে। নীতি আয়োগের Reimagining Skilling for Viksit Bharat@2047 রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ, অর্থাৎ ২৩ শতাংশ, NEET অবস্থায় রয়েছেন। NEET বলতে বোঝায়—যারা পড়াশোনা, চাকরি বা কোনও প্রশিক্ষণে নেই।
এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে তরুণীরা। অনেক পরিবারে মেয়েদের ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তাদের পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসায় যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। উচ্চশিক্ষার খরচও বড় বাধা। শুধু কলেজের ফি নয়, বই, যাতায়াত, টিউশন এবং দক্ষতা শেখার খরচও অনেক পরিবারের পক্ষে চাপের।
আরও একটি সমস্যা হল শিক্ষা ও চাকরির প্রয়োজনের মধ্যে বড় ফাঁক। মাত্র ৮ শতাংশ তরুণ পড়াশোনার বিষয় অনুযায়ী কাজ পান।
তাই শুধু নতুন চাকরি তৈরি নয়, দরকার সাশ্রয়ী শিক্ষা, উন্নত প্রশিক্ষণ, নিয়মিত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ এবং নারী-পুরুষের সমান সুযোগ। তবেই ভারতের তরুণ জনসংখ্যা দেশের অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

