প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতি দমন আইনে অভিযোগ দায়ের হল গড়িয়াহাট থানায়। নিজের পদের অপব্যবহার করে আর্থিক লাভের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, কখনও নগদে, কখনও উপহার হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার আর্থিক সুবিধা ভোগ করেছেন শান্তনু।
অভিযোগপত্রে শান্তনু কী ভাবে ওই আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংস্থার কাছ থেকে তাঁর স্ত্রী বেতন হিসেবে ৭৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৯৮ টাকা পেয়েছেন। এ ছাড়াও বেনামে ৮২ লক্ষ টাকা মূল্যের দু’টি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ উঠেছে। ছেলের কলেজের ফি বাবদ প্রভাব খাটিয়ে ২০ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা তোলারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের কান্দিতে বাড়ি মেরামতের নামে ৬১ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একাধিক সংস্থার কাছ থেকে কখনও ১০ লক্ষ, কখনও ১৫ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়াও বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের কাছ থেকে কখনও নগদে, কখনও উপহার হিসেবে ১৩ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শান্তনুর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য কামদারের কাছ থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমি দখল মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি। গত জুলাইয়ে ওই মামলায় শান্তনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। সেখানে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জমি দখল মামলার সূত্র ধরেই উঠে এসেছিল শান্তনুর নাম। ওই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের নামও জড়ায়। বর্তমানে তিন জনই জেলে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে দাবি, ওই তিন জনের মধ্যে আঁতাত ছিল। তাঁরা পুলিশের প্রভাব কাজে লাগিয়ে জমির মালিকদের হয়রান করতেন এবং জমি দখলের সুবিধা করে নিতে তাঁদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জমি দখলের ওই মামলার তদন্তের পাশাপাশি এ বার দুর্নীতিদমন আইনে শান্তনুর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পরিধি আরও বাড়ল। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হবে।


