পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে বালি পরিবহণকে কেন্দ্র করে বিজেপির কয়েক জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগের জেরে কয়েক জন বিজেপি নেতা-কর্মীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে দলের অন্দরেও মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে জামালপুরের চৌবেড়িয়া এলাকায় মেমারি-তারকেশ্বর সড়কের পাশে। সেখানে বালি মজুত করে রাখা হয়েছিল। বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সৈয়দ নিয়াজউদ্দিনের অভিযোগ, সোমবার রাতে বিজেপির জামালপুর-১ মণ্ডলের সম্পাদক বসন্ত পাঁজা কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় দুই বুথ সভাপতি ভাগ্য ক্ষেত্রপাল এবং প্রদীপ চৌধুরীও ছিলেন।নিয়াজউদ্দিনের দাবি, বৈধ কাগজপত্র ও চালান নিয়ে বালি ট্রাক্টরে করে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠানো হচ্ছিল। সেই সময় কয়েক জন বিজেপি কর্মী ট্রাক্টর আটকে টাকা দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তিনি জামালপুর থানার পুলিশ এবং স্থানীয় বিধায়ক অরুণ হালদারকে জানান। এর পর বালি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা বসন্ত পাঁজাসহ চার জনকে দড়ি দিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।তবে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বসন্ত পাঁজা। তাঁর বক্তব্য, আঝাপুর থেকে ফেরার সময় কয়েকটি বালিবোঝাই ট্রাক্টর দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। তাই তাঁরা বালির কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ই স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে বলে দাবি তাঁর।ঘটনার পর বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যেও মতবিরোধ সামনে আসে। বসন্তের অভিযোগ, দলের মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের পাঠানো প্রায় ৫০ জন লোক সেখানে গিয়ে তাঁদের মারধর করেন। অন্য দিকে প্রধানচন্দ্রের দাবি, দলের কয়েক জন পদাধিকারী রাতের বেলা বালির জায়গায় টাকা তুলতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
তোলা’ চাওয়ার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানে উত্তেজনা, বিজেপি নেতা-কর্মীদের বেঁধে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য
Popular Categories


