কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার ভাটকল শহরে গণেশ বিসর্জন মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে গুলমি রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকায় একটি মসজিদ ও আরবি মাদ্রাসায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুটি জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালান্ড থেকে একটি গণেশ বিসর্জন মিছিল বের হয়েছিল। মিছিলটি গুলমি রেলওয়ে সেতু পার হয়ে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় গুলমি স্টেশন রোডের কাছে পৌঁছয়। সেই সময় ইসমাইল সুন্নি জামিয়া মসজিদ এবং একই ভবনের নিচতলায় থাকা তাজুস-সুন্না আরবি মাদ্রাসার দিকে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তবে কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আলিম ভাটকল টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে উত্তর কন্নড়ের পুলিশ সুপার দীপন এমএন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তদন্তের বিষয়ে আশ্বাস দেন। পুলিশের এই আশ্বাসের পর থানার সামনে জড়ো হওয়া মানুষজন সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত আরও জোরদার করেছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাথর ছোড়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য ভাটকল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা নিয়মিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যাচাই না করা খবর বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গণেশ উৎসব উপলক্ষে কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় বিসর্জন মিছিল চলায় সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। ভাটকলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে।


