ফের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল দিল্লিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর ছুরি দিয়ে খুন করা হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর একটি খেত থেকে তাঁর দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। দেহের বেশ কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলায় প্রাথমিকভাবে মৃতার পরিচয় এবং লিঙ্গ নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সকলেই ওই নাবালিকার পরিচিত। তাঁদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের সঙ্গে দেখা করতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেখানে মদ্যপ অবস্থায় প্রথমে এক অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করে। পরে পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে খুন করে দেহটি একটি খেতের মধ্যে ফেলে অভিযুক্তরা টেম্পোয় করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
দিল্লির কুশক রোড এলাকায় জয়পাল রানা নামে এক ব্যক্তির খেত থেকে পরে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ততক্ষণে দেহের বেশ কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে দেহটি পচেও যায় এবং মুখ বিকৃত হয়ে যায়। ময়নাতদন্তে শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে এলাকার প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখান থেকেই একটি টেম্পোর সন্ধান মেলে। বুধবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে টেম্পোচালককে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চার অভিযুক্তের নাম জানতে পারে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। ১৯ বছর বয়সি শিবম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিন নাবালকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ থাকলেও বিষয়টি পরিবারের জানা ছিল না। ফলে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনও অভিযোগও দায়ের হয়নি।
ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দু’টি ছুরি এবং নির্যাতিতার পোশাক-সহ বেশ কিছু সামগ্রীও তদন্তের স্বার্থে সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সময় এবং পুরো ঘটনাক্রম নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।


