ছর শেষের পুরভোটকে পাখির চোখ করে প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল কী হবে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে—তা নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে আলোচনা। এই আবহেই ফের কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। আগামী ২ নভেম্বর তাঁর কলকাতা সফরের কথা রয়েছে। সফরে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, কালীপুজোর আগেই নীতীন নবীনের বঙ্গ সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সফরের দিনক্ষণ নিয়ে আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এবার ২ নভেম্বর তাঁর কলকাতায় আসার কথা জানানো হয়েছে। মূলত আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। দুই পুরসভায় প্রার্থী হিসেবে কাদের বেছে নেওয়া হবে, কোন এলাকায় কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং কীভাবে নির্বাচনী প্রচার সাজানো হবে—এই বিষয়গুলি বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নীতীন নবীনের আসন্ন সফরে এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত, সাংগঠনিক শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। যদিও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে দু’দিনের সফরে বাংলায় এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সেই সফরে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রস্তুতি, নির্বাচনী কৌশল এবং প্রার্থী বাছাইয়ের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সেই বৈঠকের পর ফের নীতীন নবীনের বঙ্গ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাই এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
এখন নজর ২ নভেম্বরের বৈঠকের দিকে। পুরভোটে বিজেপির রণকৌশল কী হবে, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে এবং কলকাতা ও হাওড়ায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কী পদক্ষেপ করা হবে—সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আসন্ন সফরেই। তবে পুরভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং প্রার্থী তালিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলি জল্পনার পর্যায়েই থাকছে।


