বীরভূমে দলেরই কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির দুই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা ওই নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি পাড়ুই থানার কেন্দ্রডাঙাল গ্রামের। স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, গ্রামের একটি বাড়িতে তৃণমূলের কয়েক জন কর্মীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপির দুই নেতা। তাঁদের অভিযোগ, বৈঠকের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। পরে সেই খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিজেপির অন্য কর্মীরা। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, যে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গেই কেন বিজেপির নেতারা বৈঠক করবেন? তাঁদের দাবি, দলের নীতি ও অবস্থানের সঙ্গে এই ধরনের কাজের কোনও মিল নেই। তাই অভিযুক্ত নেতাদের জবাবদিহি করতে হবে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পাড়ুই থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভিযোগ, বিক্ষোভের মধ্যে বিজেপির ওই দুই নেতা এবং তৃণমূল কর্মীদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বৈঠক হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অন্দরেও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। দলেরই কর্মীদের একাংশের এই বিক্ষোভ স্থানীয় নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়িয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বোলপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের কয়েক জন নেতা তৃণমূলের এমন কিছু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে চাইছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শ্যামাপদ মণ্ডল আরও জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ খোঁজ নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে দল। তবে এই ঘটনায় কারা দোষী, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত কেন্দ্রডাঙালের এই ঘটনা ঘিরে বিজেপির স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে।


