তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য দিল্লিতে পাঠানো দলের নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর করলে রাজ্য সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। সেই উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে দিল্লিতে কমিশনের দফতরে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি ঋতব্রতের। কিন্তু দিল্লির পথে হরিয়ানায় সেই ট্রাক আটকে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা জানান, ট্রাকে থাকা দলের কর্মীরা বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তরা নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি ভোররাত প্রায় ৩টের সময় ঘটে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ট্রাকের চালক এবং দলের এক কর্মীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তাঁর।
ঋতব্রতের আরও অভিযোগ, ট্রাকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় অভিযুক্তরা দাবি করেছিল, গাড়িতে থাকা জিনিস তাদেরই। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় বা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বিধানসভায় এই অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিরোধী দলনেতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান, তা হলে রাজ্য সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ঋতব্রত জানান, ঘটনাটি হরিয়ানায় ঘটেছিল। তাই অভিযোগ জানানোর সময় তিনি হরিয়ানা ও দিল্লি পুলিশকে সমাজমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজ্য সিআইডির তদন্তের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, রাজ্যের একটি ট্রাকে করে গুরুত্বপূর্ণ নথি দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছিল। সেই খবর আগাম পেয়েই নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আপাতত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


