কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হল চূড়ান্ত তালিকা। এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১ কোটি ৮ লক্ষেরও বেশি নাম। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে রাজ্যের ভোটার সংখ্যায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার পিছনে মূল কারণ হিসেবে স্থান পরিবর্তন, মৃত্যু এবং ভোটার তালিকায় ভুল তথ্য থাকার কথা জানিয়েছে কমিশন।
এসআইআর শুরুর আগে কর্ণাটকে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৩১৪। সংশোধনের কাজ শেষ হওয়ার পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৮৯। অর্থাৎ, যাচাইয়ের পর মোট ১ কোটি ৮ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬২৫ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৬৭ জনকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর কর্ণাটকে এত বড় আকারে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ হল। গত ৩০ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। বুথ স্তরের আধিকারিকদের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন দাবি ও আপত্তি খতিয়ে দেখে শুনানিও হয়। গত ২২ অক্টোবর সেই পর্ব শেষ হয়। এরপর মঙ্গলবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে বড় অংশের ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন। প্রায় ৬৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ভোটারকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের খোঁজ মেলেনি বলে জানানো হয়েছে। ১৬ লক্ষের বেশি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। প্রায় ৭ লক্ষ ক্ষেত্রে ভুয়ো বা ভুল নথিভুক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
নতুন তালিকায় পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে কর্ণাটকে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৯৩ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ২৯ লক্ষ ১২ হাজার ৩৫৫। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৮৪১ জন।
তালিকায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সংখ্যাও নজর কেড়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৮৩ হাজারের বেশি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল মৃত, স্থানান্তরিত এবং অযোগ্য ভোটারদের তথ্য যাচাই করে তালিকা হালনাগাদ করা। তবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বলে মনে হচ্ছে, তাঁদের জন্য কমিশনের নির্ধারিত দাবি ও আপিলের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়াও জরুরি।

