যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলল এবিভিপি। ছাত্র সংগঠনের নেতা শুভব্রত অধিকারীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরীক্ষার মাধ্যমে ‘পিছনের দরজা’ দিয়ে বাম ও অতিবামপন্থী সংগঠনের কর্মীদের পিএইচডিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছে এবিভিপি। যদিও সংগঠনের অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছেন বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগম।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাম ও অতিবামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্তদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। শুভব্রত অধিকারীর দাবি, একটি নিজস্ব পরীক্ষার মাধ্যমে ‘পিছনের দরজা’ দিয়ে তাঁদের ভর্তি করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের তদন্তে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই সরাসরি বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমকে নিশানা করেছে এবিভিপি। তাঁদের অভিযোগ, আফরিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবৈধভাবে’ পিএইচডি করছেন।
তবে এবিভিপির অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন আফরিন। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে এডুকেশন বিভাগে পিএইচডিতে ভর্তি হন। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলে এডুকেশন বিষয়ে পিএইচডি করা যায়।
পিএইচডিতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আফরিন। তাঁর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরীক্ষা হয়, তা ইউজিসির নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। লিখিত পরীক্ষার পর ইন্টারভিউ নেওয়া হয় এবং তার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে আফরিন বলেন, এতদিন পরে কেন এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? তাঁর দাবি, যাদবপুরে এমন অনেকেই পিএইচডি করছেন, যাঁরা একটা সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিজেপির ঘনিষ্ঠ।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আফরিন। তাঁর বক্তব্য, তিনি বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং সংখ্যালঘু বলেই কি তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে?
তবে তদন্ত নিয়ে কোনও আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। আফরিনের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হলে তিনি তাতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই তদন্ত যেন নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে না হয়। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সকলকেই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
পাশাপাশি বামপন্থী অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ‘কুৎসা’ ছড়ানোর অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন আফরিন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এবিভিপির অভিযোগ এবং আফরিন বেগমের পাল্টা বক্তব্য ঘিরে তাই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।

